Academy

মীর হোসেন সাহেব তার বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফুল ও ফলের বাগান করেন। বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ সমস্যায় পড়লেও উপযুক্ত পরামর্শের অভাবে বাগান থেকে ভালো ফলন পাচ্ছিলেন না। গত বছর তার জেলা শহরে অনুষ্ঠিত কৃষি মেলায় গিয়ে কৃষিবিষয়ক বহু তথ্য বাস্তবে দেখেন ও পড়ার জন্য বই নিয়ে আসেন। এতে তার বাগানের উদ্ভূত সমস্যাগুলোর সমাধান করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিবেশীদের সাথে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

কৃষিবিষয়ক একটি সমস্যার নাম লেখ। (জ্ঞানমূলক)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

কৃষি বিষয়ক একটি সমস্যার নাম হলো ফসলের রোগ-বালাই।

9 months ago

আমাদের জীবনে কৃষি

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের জীবনে কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কৃষি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর প্রায় সকল উপকরণ উৎপাদন ও সরবরাহ করে। এছাড়া অন্যান্য পণ্য ও সেবা ক্রয়ের অর্থও কৃষি যোগান দেয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও স্বাস্থ্য খাতের চাহিদাগুলো পূরণে আমাদের জীবনে কৃষি তাই ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো যেমন: ফসল, পশু-পাখি, মৎস্য ও বনায়ন নিয়েই হচ্ছে কৃষির পরিধি।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  • বাংলাদেশের কৃষির পরিধি এবং পরিসর ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • কৃষিবিষয়ক তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির উৎস চিহ্নিত করতে পারব।
Content added By

Related Question

View More

1 মাঠ ফসল কাকে বলে? (জ্ঞানমূলক)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

জমিতে বেড়া ছাড়া অর্থাৎ খোলা অবস্থায় যেসব ফসল চাষ করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। যেমন- ধান, গম, পাট ইত্যাদি।

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো সংবিধান অনুসারে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। এ সবকটি চাহিদা পূরণ হয় কৃষি থেকে। ধান থেকে চাল, গম গাছ থেকে গম, ফলগাছ থেকে ফল খাদ্য হিসেবে পাই। পাট, তুলা ও রেশম থেকে কাপড় তৈরির সুতা পাই। কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপান্ডা ইত্যাদি থেকে গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্র পাই। বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা, গাছের ডালপালা ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি। কাঠ ও আখের ছোবড়া, বাঁশ ইত্যাদি থেকে কাগজ পাই। আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, কেশুটি, থানকুনি, বাশক ইত্যাদি থেকে ঔষধ পাওয়া যায়। আর এ সবকিছুই হলো কৃষি।

সুতরাং বলা যায়, কৃষিই মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে।

চিত্র 'ক'- এর ফসলটি হলো ধান। আর ধান হলো মাঠ ফসল।

ধানকে মাঠ ফসল বলার কারণগুলো নিম্নরূপ-

১. ধান জমিতে বেড়া ছাড়া অর্থাৎ খোলা অবস্থায় চাষ করা হয়।
২. প্রতিটি গাছের আলাদাভাবে যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
৩. প্রতিটি গাছের গোড়ায় আলাদাভাবে সার দিতে হয় না।
৪. প্রতিটি গাছের গোড়ায় আলাদাভাবে সেচ দিতে হয় না।
৫. চাষ করার জন্য সমতল ও নিচু জমি উত্তম।

সর্বোপরি ধান একটি দানা জাতীয় ফসল। আর দানাজাতীয় ফসল মানেই মাঠ ফসল।

চিত্র 'ক'-এর ফসলটির নাম ধান এবং চিত্র 'খ'- এর ফসলটি হলো আম। ধান হলো মাঠ ফসল অন্যদিকে আম একটি উদ্যান ফসল। কারো যদি একখণ্ড জমি থাকে তবে সে তার জমিতে বছরে তিন বার ধান চাষ করতে পারে। এর মাধ্যমে সে তার সারা বছরের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত অংশ বিক্রি করে অন্যান্য চাহিদাও পূরণ করতে পারে। ধানের উৎপাদন খরচও খুব বেশি লাগে না। পক্ষান্তরে আম চাষের জন্য উঁচু জমির দরকার হয়। একটি আমগাছ লাগিয়ে তা থেকে ফলন পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ৪-৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়। আবার একবছর আম ধরলে পরবর্তী বছর আম নাও ধরতে পারে অথবা কম ধরবে। আম চাষে প্রতিটি গাছের আলাদা যত্ন নিতে হয় বলে গাছ প্রতি খরচও বেশি পড়ে।

সুতরাং অর্থনৈতিক বিবেচনায় আমের চেয়ে ধান বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

কৃষি একটি প্রযুক্তি। আর এ প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফল লাভের জন্য অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ কৃষক তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কৃষির যেকোনো তথ্য দিতে পারেন। একজন অভিজ্ঞ কৃষকের কাছ থেকে নবীন কৃষকরা তথ্য নিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করেন এবং পরবর্তীতে তারাও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। আর এভাবে অভিজ্ঞ কৃষক কৃষিকে চলমান রাখেন।

কৃষি বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম কৃষি মেলা। এ মেলায় এক নজরে নানা ফসলের বাহারি সমাহার দেখা সম্ভব হয়। কৃষি বিষয়ক নানা সমস্যা ও তার সমাধান সংবলিত নানা লিফলেট, পুস্তিকা, বুলেটিন, পত্রিকা এ মেলায় প্রদর্শিত হয়। এগুলো বিনামূল্যে সবাইকে দেওয়া হয়। এছাড়াও কৃষি মেলা থেকে উন্নতজাতের চারা, 'বীজ, সার, কলাকৌশল, প্রযুক্তি ইত্যাদি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যায়। মীর হোসেন সাহেব তার জেলা শহরে আয়োজিত এরকম একটি কৃষি মেলায় গিয়ে কৃষি বিষয়ক বহু তথ্য বাস্তবে দেখেন। পড়ার জন্য লিফলেট, পুস্তিকা নিয়ে আসেন। মেলা থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা মীর হোসেন সাহেবের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয় এবং তিনি তার বাড়িতে করা বাগানের নানাবিধ সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পান। এখন তিনি নিজেই চারা তৈরি করতে পারেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সার দিতে পারেন, প্রয়োজনে উন্নত কলাকৌশল ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ কৃষিমেলার অভিজ্ঞতা মীর হোসেন সাহেবকে বাগানের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে দক্ষ করে তুলেছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...